সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

পাঠ প্রতিক্রিয়া অতীতের সাথে চলতে থাকা নিরন্তর কথোপকথন         সৌরভ বাঁক দ্য কলিং অব হিস্টরি / স্যর যদুনাথ সরকার অ্যান্ড হিজ এম্পায়ার অব ট্রুথ। দীপেশ চক্রবর্তী।পার্মানেন্ট ব্ল্যাক,২০১৫, ৫৯৫। "Reading is traveling without the bother of baggage."                             ( Emilio Salgari) লকডাউনের শুরুতেই রামচন্দ্র গুহের একটি সম্পাদকীয় কলমে পড়া এই লাইনটা বেশ মনে ধরলো , মনে পড়লো  কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা, মনে মনে" গানটির কথা । সুতরাং আমিও বইকে অবলম্বন করে হারিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিলাম । ইতিহাসের ছাত্র হিসেবে আমাদের যা অভ্যাস সেই মত টাইম ট্রাভেল করবো বলেই মনস্থ করলাম । অর্থাৎ বর্তমানে বসে অতীতের একটি নির্দিষ্ট সময়ের  বিশেষ একটি প্রক্রিয়াকে বুঝবো । এক্ষেত্রে আমার অবলম্বন হল দীপেশ চক্রবর্তীর The Calling of History বইটি। আটটি অধ্যায়ে বিভক্ত তিনশো চার পাতার বইটির আলোচনা কাল বিংশ শতাব্দীর প্রথ...
ঋণ স্বীকার ও ব্লগজিনের সদস্য বন্ধুরা দীপঙ্কর বাগচী, প্রসূন মজুমদার, আনন্দী চট্টোপাধ্যায়, সৌভিক বসু ও অর্ণব চৌধুরী
ঋণ স্বীকার ও ব্লগজিনের সদস্য বন্ধুরা দীপঙ্কর বাগচী, প্রসূন মজুমদার, আনন্দী চট্টোপাধ্যায়, সৌভিক বসু ও অর্ণব চৌধুরী                  
শুভদীপ নায়কের কবিতা ছবিঃ উইলিয়াম ব্লেক  বীজ ১ এই যে গোপনবীজ বাতাসে উড়ে আসে, যার পতন হবে বারান্দার ফাটলে, ফুটে উঠবে গাছ, বসতবাড়ির কয়েকপুরুষের সত্যি,--- তাকে চিনেছি আমি । একদিন সৈনিক ছিলাম, পরাজয়ে ভেসে উঠে কাঠের কফিনে   ছুটে আসি ঘরে, অসংখ্য ফাঁকে । লোহার লাটিম আমি, আমার আত্মতৃপ্তির কারণ হয়ে জমে থাকে আমারই বদঅভ্যাস । নিকটস্মৃতির কথা ভুলে আমি লিখতে বসি স্পর্শ, অবিরাম ধোঁয়া আর হাঁসের সাঁতার । বসে আছি আড়ালে, বসে আছি ঢালু রোদের সকালে । আমারও বাসনা ছিল খড়ের গাদায়, মহুয়ার রসে, রেলস্টেশনে । জ্যোৎস্নাকে অবজ্ঞা করে আমি কেবলই দিয়েছি হত্যার আদেশ । খারিজ করেছি যাকে, শুধু সেই--- মানেনি আমাকে ।  আমি যার অন্তর্গত, ভূখণ্ড জলের তলায় তার এতকাল নিয়োজিত । আমি যার কর্তব্যহীন, সেই অফুরান আশা সমস্ত শরীর নিয়েই চিন্তিত । শাখা থেকে কেউ যদি ছিঁড়ে নিত আমাকে, শুকিয়ে, কুলের ত্বকের মতো ফেটে গিয়ে পড়ে থাকতাম স্বস্তিতে, অবসরকালে । এইমাত্র নামলাম মেঘ থেকে, এইমাত্র ঘটে গেল যা ঠেকিয়েছি রোজ, খসে পড়ে ভেঙে গেল কঠিন শপথ । হতে পারত বীজ, ...
প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা  P.c: Google  সমুদ্র ও পিঁপড়ের কান্না     ( তুষার চৌধুরী-কে) সমুদ্র নুনের গা চেটে পিঁপড়ের রতিক্রিয়ার পা চেটে একটি চিত্রকল্প না ফুটে উঠতে পেরে ঝরে গেল। ঝরে গেল মরে গেল এভাবেই ঝরে মরে যারা বসন্তের অপাপ ইশারা তুমি তার কানাকড়ি কড়ে আঙুলেও ধরতে চাও নি। কিছুদূর হেঁটে দ্যাখো দপ্‌দপে আলো জ্বেলে বার খোলা কবন্ধ সম্রাজ্ঞী আর অবসন্ন ভাঁড় সেই দ্বারদেশে পায়ুপথ ভ্রমণবিলাসী তুমি সেই চাহিদার থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখো বেতো যাজকের ছদ্মবেশে। নিসর্গের পেছনে হাওয়া দিয়ে তিন ঠ্যাং সারমেয় একটি গাধাকে ভুল ভেবে ঘোড়া বলে বন্দনা করেছে মন্ত্রবলে গজিয়েছে ডানা আগুনে পুড়লে পরে অর্ফিয়ুস বিচির বেদনা। অথচ জারজ তো বেদনারও আছে - কয়েকশো বেদনাবালা দাসী উরুদেশ ফাঁক করে বাবুদের বিছানায় ভিজিয়েছে কাঁথা গনোরিয়া সিফিলিস ঘাম সেয়ানা ধর্ম অর্থে কাম বঙ্গের বিভীষণ যৌতুক পায় শিরোনাম। ট্র্যাপিজে কার্নিশে পা রেখে সতর্ক হরিণ দেখে ট্র্যাফিকে কি পরিবর্তন এলো যমের দক্ষিণ দ্বারে কে বাজালো বগল আবার আস্তিক কোপ খেয়ে খসে যায় নাস্তি...
শোভন ভট্টাচার্যের কবিতা  ছবিঃ সূর্যকান্ত পাঠক   অতিমারী সন্তানই ধর্ষক হলে নাভীশ্বাস ওঠে প্রকৃতির; বিষে বিষে ছটফটায় ক্ষিতি অপ তেজ মরুত ব্যোম। সেদিকে দ্যাখে না ফিরে সভ্যতার উদ্ধত অহম; মানুষই নিয়ন্তা যেন বিশ্বজোড়া গতি ও স্থিতির। ভুলে যায় তার জন্ম এই প্রকৃতিরই ছায়াতলে। সেই শান্তি, সে-আশ্রয় কী নিবিড় মাতৃস্নেহবৎ ভুলে গিয়ে ভাবে মূঢ় মহাবিশ্বে মানুষই মহৎ; লুন্ঠনের থাবা তার পড়ে জলেস্থলে ফুলেফলে। মাটি ফালাফালা হয়, ছিন্নভিন্ন আকাশ-বাতাস। কান্না ওঠে—  সে কান্নাও কোলাহলে চাপা পড়ে যায়; সেই অশ্রু সুনামির ঢেউ হয়ে পৃথিবী ভাসায়; সেই অশ্রু জন্ম দেয় সংক্রামক মারণ ভাইরাস। সারা বিশ্ব লকডাউন, মৃত্যু বেড়ে নব্বই হাজার... দুনিয়া উজাড় করে পথ খোঁজে প্রকৃতি বাঁচার। ঋতু-পর্ণমোচী নিঃশেষে ঝরাও পাতা, দেখেছি চৈত্রের মাঝামাঝি। পর্ণমোচী সভ্যতার নশ্বর জীবনধর্ম মেনে কত লোক ঝরে গেল ইতালি আমেরিকায় স্পেনে… ‘অসভ্য’ তৃতীয় বিশ্বে আমরা তো নেহাত মশামাছি। তুমি দয়ামায়াহীন এত নির্বিকার থাকতে পা...
স্রোতস্বিনী চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা ছবি- গুগুল    রাষ্ট্র  ---- কী আশ্চর্য গান বাজে  পৃথিবীর পথে  মোহময় সে সুর  মানু্ষের পায়ে প্রাণ ফিরে পায়  বেলা ক্রমে শেষ হয়ে আসে  বেড়ালের ভাত ঘুম জুড়ে  লেগে থাকে হ্লাদিনী আহ্লাদ  দুটো ফুল পড়ে আছে বাঁকা পথ শেষে  পৃথিবীর গান শোনা  শেষ হল তার  আকাশ প্রলয় নিয়ে আসে  আকাশ শিকারের ফাঁদ পেতে রাখে  তাই রাত নামে চুপিসাড়ে রাত নামে মানুষের গায়ে  পিষে ফেলে দেহ  চাকার দাগের স্মৃতি যেন  মহাপ্রস্থানের পথে নিয়ে যায় তারারা ঘুমোয় অসহায় নিয়তির প্রায়  কেউ কেউ জেগে ছিল ওই দিন ওই দিন রেল ট্র‍্যাক ভিজে একাকার  ঘাম রক্ত মিলেমিশে  অপরূপ দেশের সরকার  দুখিনীর প্রাণ জুড়ে, বক্তৃতা দিয়েছিল  সেও যেন শোকস্নাত স্তব!  মানুষের পিষে যাওয়া দেহ মানুষের পিষে যাওয়া মন মানুষের পড়ে থাকা রুটি  এসো আজ দেখি, এই জল্লাদের উল্লাস  এই জল্লাদের চেতাবনি  রাত আটটা বেজে গেলে  ঘরে পথে বেজে ওঠে  এমনি প্রেক্ষাপ...