সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ঋণ স্বীকার ও ব্লগজিনের সদস্য বন্ধুরা দীপঙ্কর বাগচী, প্রসূন মজুমদার, আনন্দী চট্টোপাধ্যায়, সৌভিক বসু ও অর্ণব চৌধুরী                  
সম্পাদকের কলমে ক্যালেন্ডারে গীষ্মকাল হলেও এখন আকাশে আর তেমন প্রখরতা দেখা যাচ্ছে না। যেন এই অতিমারী সংশয়ের ভিতরে এ-সমাজের এক শ্রেণীর দুর্দশার আক্ষেপ কিছুতেই ঘোচাতে পারছে না প্রাচ্যের আকাশ। সুবিধাভোগী মানুষের উৎপাত এপ্রকৃতি যেন কিছুতেই ক্ষমা করতে পারছে না, ক্রমশ ফুঁপিয়ে উঠছে আরও। দেশ-রাজনীতি আর বুর্জোয়ার দালালরা এখনো যে যার মুনাফা অর্জনের প্রচেষ্টায় আছে। এমনকি স্থূল মানবিকতা দিয়ে সামাজিক ভাবে মহান হতে চাওয়া একদল কবি-সাহিত্যিকেরাও এরই মধ্যে বিপণি হয়ে উঠতে চায়। তাদের প্রশ্ন নেই, অথচ তারা স্পষ্ট করে ভাবেন যে তারা এই সভ্যতার এক অনিবার্য সৃষ্টি। আজ মঙ্গলবার আকাশে ফের পাখির ওড়াউড়ি। এইসবের ভিতরেই তারা গান গাইছে। অসংখ্য বোবা মানুষের হয়ে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কী যেন গেয়েই চলেছে...               
প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতা   ছবিঃ অর্পণ বসু  অনিবার্য যৌন শালপাতা    (প্রজিত-কে )  ১ ভাঁড়ুদাস, পথে চলো  শ’য়ে শ’য়ে ফুটে আছে পাছার বিপণী  তুমি আর কারও কথা শুনোনাকো জাঙিয়ার কথা শোন  কেন সে অযথা ভিড়ে  একা কষ্ট পায়  আস্ফালন নাই তার  নাই তার স্ফুরিত সময়  তুমিও তো দল পিছু  পিছু পিছু  হেঁটেছো সরণী  ন্যুব্জ পিঠের ঘাম ভিজিয়েছে কক্‌সিক্স  তুমিও তো বাঁকা চোখে দেখেছো ভার্জিন  কিভাবে ফুঁকছে সিগারেট  তোমাকে দেয়নি ভাগ  তাই কি তোমার রাগ  পোশাকের মেধা থেকে ঝরেছে বাজার  রোদ ছিলো --সরে গেছে  আভা ছিলো -- মরে গেছে  সানস্ক্রিন ছাতামাথা  ছাঁট সম্বল  ভাঁড়ুদাস, পথে এসো  মাইরি তোমার থেকে বড়ো কোন  চারপেয়ে নেই  কি কথা আলোর সাথে ? আলেয়ার ?  সময়ের থেকে বিষ   গড়িয়ার ঠেকে হিসি  ছড়িয়েছে  ব্লার্ব ও কভার ড্রিবলিং  দেখো যেন গোল করোনাকও,  থ্রু-পাস এমন দাও  যে ধরবে সে অফ্‌-সাইড খাবে ...
হীরক রায়চৌধুরীর কবিতা   ছবিঃ কবি গাব্রিয়েলে তিন্তি (ইতালী) কম্বিনেশন গভীর অরণ্য থেকে খুঁজে পাই তার মুখ,অনুশাসনের  খোলসটুকু তুলে ফেললে দেখা যায় চামড়ায় তার দাগ কেটে ব'সে গেছে, কব্জিতে ঘড়ির ব্যান্ডের  ছাপ যেমন ব'সে যায় ,আন্তরিকতার তেল জল পড়েনি  সেখানে বহুদিন;বহির্বিশ্ব কিন্তু বহুদিন পর রোদে বেড়াতে বেরিয়ে ঝলমলে,হাসিখুশি ! দেখা যাক,আমি,সে আর অরণ্যের বাইরে যা কিছু আছে স্বাস্থ্যকর সব মিলিয়ে একটা ভরপুর কম্বিনেশন তৈরী হয় কিনা!             কেঁদেই চলে গীটার Commemorating The Beatles(Specially to the Song "While my guitar gently weeps".) কীসের পরে কী সাজাচ্ছি! নদীর পরে দেশ! গীটার শুনে বুনছি মনে  অ্যালকোহলের রেশ। হ্যারিসন আর পল কে দেখো নাচছে কেমন ভাই, গীটারটাকে এইবারই তো কাঁদিয়ে নেওয়া চাই! মেঝের ওপর ময়লা জমা মুছতে হবে ক'ষে, এরিকটা তাই ঘষছে গীটার  ভদ্রলোকের রোষে। ভালোবাসার কথা যখন উঠছে তারের মাথায়, ...
জিয়া হকের কবিতা                        ছবিঃ ফেসবুুক অপচিন্তা ওখানে কচুগাছ ছিল তখন। ওখানে মুক্তা পাওয়া যেত।আমি তো পেয়েছি। তুমি পাবে না কেন? তুমি তো পাপ করোনি। আমার যেমন কোনও পাপ নেই, তবে পাপবোধ আছে।আমি এখন আর লিখতে পারছি না। এর কারণ, আমি চিন্তা করতে পারছি না। অতীত একটা ক্রমে সাজানো থাকে স্মৃতিতে। সেই জন্য আমরা বলতে পারি কোন ঘটনার পরে কোন ঘটনা ঘটেছে। সেই স্মৃতি বিশৃঙ্খল হয়ে পড়লে তা থেকে ঘটনা উদ্ধার করা শক্ত। যেভাবে আমি আপাতত উদ্ধার করতে পারছি না। হয়ত পরে পারব। নিশ্চিত নই, নিশ্চিন্ত নই। কেন চিন্তা করতে পারছি না, এই নিয়েই এখন আমার দুশ্চিন্তা। আমার সমস্যা আমি কাউকে বলতে পারি না পাছে লোকে আমাকে অস্বাভাবিক ভাবে। এই সমাজকে ছোটবেলা থেকেই ভয় পাই, তারপরও যেখানে যাই সেখানে গিয়ে দেখি সেখানেও একটা সমাজ আছে। আমি সমাজকে ত্যাগ করলেও সমাজ আমাকে ত্যাগ করে না। এর মানে এই নয় যে সমাজ কত উদার, কত মহান, কত গ্রহিষ্ণু। এর মানে হল সমাজ এমন একটা পেট যার সব সময় খাদ্য দরকার।আমি সমাজকে পরিপাক করতে পারি না,সমাজই...
অভিষেক মুখোপাধ্যায়ের কবিতা                     ছবিঃ গুগুল ঘন সন্নিবদ্ধ বস্তি থেকে ১ আরজন্মে শিরদাঁড়া- রাত্রিহীন হিলহিলে সহজাবরণ ছেদ করো তেত্রিশ সুবর্নগরল চেরাজিভ। উচাটনে লাথি মারছে, মাতাল ত্রিকালশম্ভু শিব বাঁকানো অস্তিত্ব, ঝোলা চামড়ার পরতে পরতে কাঁটাতার বিতর্কিত জিন ভেদনের দীর্ঘস্বপ্নে দামামা বাজাল রাষ্পুটিন। অনুচ্চার বিদ্যুৎ ঝলকাল চলাচলে কিভাবে পেরোতে হয় খোঁপাচুল শারদসকালে মানুষ জানেনা। শুধু, মোজাইকে নখ আঁচড়ায়। একখন্ড লতালতা, দেশ তাকে টেনে নিয়ে যায়। ২ সারিবদ্ধ ঘামগন্ধ সানানো ব-দ্বীপ হাঁড়িকাঠে ছাগমুন্ড হাঁ করে আছে শিয়রে টাটানো খাঁড়া, জবাফুল হাল্লা বোল রব ছোঁয়াচে ছোঁয়াচে অগ্নি, ভারি তামাকের ধোঁয়া নিভন্ত প্রদীপ যার নীচে- ইদানিং ফিল্টার ফেটে ফেটে ধাত্রী ফুঁড়ে বুড়ো হয় দেউটির শব রেলিং লোহার সুতো, সরোদের রসনাতন্ত্রের তাথৈ মারণমন্ত্র, ঝড় আনে ঝাকুনিও আনে ইন্দ্রিয় সাঁতার কাটে হরকার বানে তখন আঠালো লাগে, গ্রামছাড়া ঘাড়-এ-গর্দান অলৌকিক চতুর্ভুজ বিশ্বকেশ শোনায় আজান। ৩ এক জলপ্রবাহ চিৎকার ভেতরে ...
অর্ণব চৌধুরীর কবিতা                    ছবিঃঃ আনন্দী চট্টোপাধ্যায়       ধূর্ত  সে জানে না,  কীভাবে যে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রাষ্ট্রের ভাষায় কথা বলে.. কথা বলে, বলে চলে এভাবে কাকের বাসা ভেঙে, কারা যেন রেখে যায় আধপোড়া স্বপ্নগুলি তার সে জানে না– কুয়াশার মতো কেন কেঁপে ওঠে সন্ন্যাসিনী একা নিয়তি সন্ন্যাসের ধুলো ওড়ে তবু কতো কামনার সূতো নিজেকে জড়ায় কতো ভয় ভক্তি নিয়ে মানুষ রয়েছে এই বিনোদনের বহরে অসহায় যতোটা যে ততোটাই উপহাস্য হয়ে ওঠে আজ কতো পরিহাস নিয়ে বেঁচে থাকে নধর যাপন অথচ শহর জুড়ে পরিযায়ী শ্রমিকের দল হেঁটে যাচ্ছে দিকশূন্যে ভাতের গন্ধের মতো তার রাস্তা চলে গেছে ত্রিভূবণের পারে রোদের প্রখর তেজ আর উদাসীন হাওয়া শুধু যাচ্ছে পিছুপিছু, আদিগন্ত খিদের নেশায় নিশ্চুপ যদিও এখন জানি চুপচাপ ক্ষয়ে যেতে হয় অনুমান, হিংসা, ভয়, যেরকম তোমার দস্তুর আমারও সুখের দিন, সংসারে নশ্বরজন্ম পায় রক্তের ভিতরে তন্ত্র, ফিরে পায় শৈশবের হাসি যদিও এখন জানি, ফিরে আর আসবে না কিছু পাবো না তে...